Close

চাকরির ইন্টারভিউ : যে বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ

আপনার সব থেকে বড় দুর্বলতা কি ? – এই প্রশ্নের উত্তর যেভাবে দিবেন

সাক্ষাতকারের একটি পর্যায়ে নিয়োগকর্তা হাসিমুখে জানতে চাইলেন আপনার সব থেকে বড় দুর্বলতা কি ? একটু ঘাবড়ে গেলেন , কি বলবেন বুঝে উঠতে পারলেন না। নিজের সম্পর্কে ভালো কিছু বলা যায় নিমিষেই কিন্তু দুর্বলতা ! যেখানটায় নিজেকে প্রমাণ করতে এসেছেন সেখানটায় দুর্বলতার কথা কিভাবে বলবেন।সেই দুর্বলতাটা আবার চাকরি থেকে বাদ পড়ার অন্যতম কারণ হয়ে না দাঁড়ায়। তাই এই প্রশ্নের উত্তরটি হওয়া চাই নিরপেক্ষ যা চাকরি থেকে বাদ পড়ার অন্যতম কারণ হবে না। আসুন তবে জেনে নেই নিরপেক্ষ ভাবে এই প্রশ্নের উত্তর দেয়ার কৌশল।


কেন এই প্রশ্ন

এই প্রশ্নের উত্তরটি সঠিক হয় যদি আপনি বুঝতে পারেন কেন আপনাকে সাক্ষাতকারে এই প্রশ্নটি করা হচ্ছে। চাকরিদাতারা সাধারণত এই ধরণের প্রশ্ন করে থাকেন ৩টি বিষয় জেনে নেয়ার জন্য তা হলো:

১. প্রার্থীর নিজের সম্পর্কে ধারণা আছে কিনা। কেননা যে নিজেকে ভালো করে জানে সে যথারীতি নিজেকে যে কোনো জায়গায় তুলে ধরতে পারে। নিজেকে মানিয়ে চলতে পারে বৈরী পরিবেশের সাথে।তাই এই প্রশ্নের মাধ্যমে তারা জানতে চান আপনি আপনার সম্পর্কে কতটুকু জানেন।

২. আপনি সৎ কিনা। একজন সৎ কর্মী প্রতিষ্ঠানের জন্য সম্পদ স্বরূপ। প্রতিষ্ঠান তার উপর নির্দ্বিধায় ভরসা করতে পারে। যা প্রতিষ্ঠানের জন্য দীর্ঘ মেয়াদে সুফল বয়ে আনতে সহায়ক। তাই এই প্রশ্নের মাধ্যমে নিয়োগকর্তা দেখতে চান আপনি নিজের প্রতি সৎ কিনা। আপনার দোষ -ত্রুটি আপনি বুঝেন কিনা এবং তা মেনে নেয়ার মানসিকতা আছে কিনা। আর সেটা বোঝা তখনিই সম্ভব যখন আপনি আপনার দুর্বলতার কথা বলতে পারবেন চাকরিদাতাদের সামনে।

৩. নিয়োগকর্তা জানতে চান আপনার মাঝে নিজেকে ক্রমান্বয়ে উন্নয়ন করার মানসিকতা আছে কিনা। প্রাতিষ্ঠানিক কাজে প্রতিনিয়তই নানান উন্নয়নের প্রয়োজন হয়। আর এই উন্নয়ন তখনিই সম্ভব হয় যখন কাজের মধ্যকার ভুলগুলোকে খুঁজে বের করা যায়। চাকরিদাতা দেখতে চান আপনার মাঝে সেই মানসিকতা কতটুকু। আবার অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানের মাঝে কর্মীদের ও নিয়মিত উন্নয়নের প্রয়োজন হয়। কিন্তু এই উন্নয়ন কেবল তাদের মাঝেই সম্ভব যারা তাদের দুর্বলতাগুলোকে সহজে মেনে নিতে পারে এবং তা উন্নয়নে কাজ করতে পারে। এই প্রশ্নের মাধ্যেমে নিয়োগকর্তা জানতে চান আপনি সেই মানসিকতার অধিকারী কিনা। আপনার মাঝে নিজের দুর্বলতা স্বীকার করার মানসিকতা আছে কিনা।


যেভাবে উত্তর দিবেন

এই প্রশ্নের উত্তর দেয়ার সময় ৩টি বিষয়ের উপর লক্ষ্য রাখে উত্তর দিতে হবে। এই ৩টি দিক হল:

সততা

চাকরিদাতারা সবসময় একজন সং কর্মী খুঁজে থাকেন। তাই আপনার উত্তরের মাঝে সততার প্রকাশ থাকতে হবে। আপনি যদি বলেন আমার কোনো দুর্বলতা নেই। তাহলে তা কখনোই আপনার সততার প্রমাণ হবে না। কারণ এর মাধ্যমে আপনি বোঝাতে চাইছেন আপনার দুর্বলতা আপনি স্বীকার করতে প্রস্তুত নন যা কখনোই একজন সফল প্রার্থীর লক্ষণ নয়। অন্য দিকে যদি বলেন আমি মশারি টানতে পারি না তাহলেও তা ইঙ্গিত করবে আপনি শুধু মশারিই টানতে পারেন না এছাড়া আর সব কিছুই আপনার দ্বারা সম্ভব। এই রকম উত্তরটি বাস্তবতা বিবর্জিত একটি উত্তর। কেননা একজন মানুষের পক্ষে সব কিছু জানা সম্ভব নয়। ফলে চাকরিদাতারা ভাববেন আপনি কোনো কিছু লুকচ্ছেন অথবা আপনি নিজের সাথে সৎ নন।ফলে আপনি জানেন না আপনার দুর্বলতা কি।

সাংঘর্ষিক নয়

আপনার উত্তরটি সৎ হওয়া বাঞ্ছনীয় কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে তা যেন আবেদনকৃত পদটির সাথে সাংঘর্ষিক না হয়। যেমন ধরুন আপনি বিক্রয় কর্মীর পদের জন্য সাক্ষাতকার দিচ্ছেন। এই পদটির জন্য বহিঃমুখী মানসিকতার প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেয়া হয়ে থাকে। সেখানটায় আপনি যদি বলেন আপনি মানুষের সাথে কথা বলতে লজ্জা বোধ করেন অথবা আপনি অন্তর্মুখী স্বভাবের মানুষ তাহলে এই দুর্বলতাটি হতে পারে একমাত্র কারণ চাকরি থেকে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার। তাই আপনাকে এমন কোনো দুর্বলতার কথা বলতে হবে যা আবেদনকৃত পদের সাথে সাংঘর্ষিক নয়।

শূদ্রে নেবার মানসিকতা

আপনার বক্তব্যের মাঝে তুলে ধরুন কিভাবে দুর্বলতাকে শূদ্রে নেবার চেষ্টা করছেন , আপনার চলার পথে যাতে তা বাধা সৃষ্টি না করে তার জন্য আপনি কি করছেন। দুর্বলতা সবারই থাকে কিন্তু সেই শ্রেষ্ঠ যে কিনা তা কাটিয়ে উঠতে পারে বা কাটিয়ে উঠার চেষ্টায় অবিরাম লেগে থাকে , বা তাকে মানিয়ে চলতে পারে. এর মাধ্যমে নিয়োগকর্তাদের মাঝে দুটি জিনিস প্রকাশ পাবে , তা হলো:

১. আপনি আপনাকে ভালো করে চিনেন সুতরাং আপনি আপনার কাজের প্রতি আন্তরিক।

২. আপনি অদম্য এবং লক্ষের প্রতি নিশ্চল , কোনো বাধাতেই আপনি দমে থাকার পাত্র নন।


আপনার দুর্বলতা হতে পারে আপনার যথাযথ শক্তি, যদি তা সঠিকভাবে নিয়োগকর্তাদের মাঝে তুলে ধরা যায়। তাই ঘাবড়ে না যেয়ে সুন্দর করে সাজিয়ে বলুন আপনার দুর্বলতার কথা , তাহলেই যা হতে পারতো আপনার বিফলতার কারণ তাই হয়ে উঠবে আপনার সফলতার কারণ।


Search jobs by