Close

চাকরির পরীক্ষার নানা দিক

স্বপ্নের চাকরিটি পেতে আমরা কে না চাই। কিন্তু সেই চাকরিটি হাতের মুঠোয় পেতে পার করতে হয় নানান পরীক্ষা। এই ধরণের পরীক্ষার উপর কোনো ধারণা না থাকায় প্রথম দিকটায় থমকে যেতে হয়। অন্যদিকে পঠিত বিষয়ের সাথে খুব একটা সামঞ্জস্য না থাকায় নতুন করে আবার প্রস্তুতি নিতে হয়।য া ক্যারিয়ারের পথ চলাকে শ্লথ করে দেয়। এই পথ চলাকে দ্রুত করার জন্য চাই একটি ভালো পূর্ব প্রস্তুতি। আর এই পূর্ব প্রস্তুতির জন্য জেনে নেওয়া প্রয়োজন চাকরির পরীক্ষার নানান দিক। যা একটি ভালো প্রস্তুতির সহায়ক। তাহলে আসুন জেনে নেই চাকরির পরীক্ষার নানান দিক।


টেলিফোনে ইন্টারভিউ ( Telephone Interview )

টেলিফোনের মাধ্যমে সাক্ষাতকার নেয়ার প্রক্রিয়াকে টেলিফোনি সাক্ষাতকার বলে। এটি চাকরির পরীক্ষার সর্ব প্রথম ধাপ।সাধারণত বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো এই ধরণের পরীক্ষা নিয়ে থাকে। এই পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠান প্রার্থীর মনোভাব , কথা বলার ভঙ্গি ইত্যাদির উপর ভিত্তি করে প্রাথমিক বাছাইয়ের কাজটি করে থাকেন। এই পরিক্ষায় টেলিফোনে কল করার মাধ্যমে প্রার্থীকে বিভিন্ন প্রশ্ন করে থাকেন নিয়োগকর্তা। যেমন - প্রার্থীর সম্পর্কে কিছু বলা , প্রার্থীর পরিচয় , কেন চাকরিটি করতে চায় ইত্যাদি। প্রার্থী সম্পর্কে একটি প্রাথমিক ধারণা পাওয়ায় এই সাক্ষাৎকারের অন্যতম উদ্দেশ।


লিখিত পরীক্ষা ( Written Test )

টেলিফোনি সাক্ষাতকারের পরবর্তী ধাপ হয়ে থাকে লিখিত পরীক্ষা। আবার কিছু সরকারি প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি ব্যাংক, বিভিন্ন বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান সরাসরি লিখত পরীক্ষা নিয়ে থাকেন প্রার্থীকে প্রাথমিক বাছাইয়ের পর। প্রতিষ্ঠান ভেদে লিখিত পরীক্ষাটি দুটি ধাপে সম্পন্ন হয়ে থাকে। একটি বহুনির্বাচনি পরীক্ষা এবং অন্যটি বিষয়ভিত্তিক লিখিত পরীক্ষা। সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে বহুনির্বাচনি পরীক্ষার বিষয়বস্তু হলো সাধারণ জ্ঞান , সাধারণ গণিত , বাংলা ও ইংরেজি। অন্যদিকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠান ভেদে বিষয়বস্তুর তারতম্য হয়ে থাকে। কোনো প্রতিষ্ঠান ইংলিশ, সাধারণ গণিত , সাধারণ জ্ঞানের উপর পরীক্ষা নিয়ে থাকেন। আবার কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান গণিত, ইংলিশ এর পাশাপাশি ক্রিটিকাল রিজনিং ( Critical Reasoning ) , এনালজি ( Analogy ) ,ওয়ার্ড পাজেলের (Word Puzzle) উপর পরীক্ষা নিয়ে থাকেন। সাধারণ গণিতে যে বিষয়গুলোর উপর প্রশ্ন করা হয়ে থাকে তা হলো -পাটিগণিত,বীজগণিত ও জ্যমিতি। ইংলিশের ক্ষেত্রে ইংলিশ ব্যকরণ , বাক্যপূর্ণ করা (Sentence Completion), শুদ্ধ বাক্য যাচাই করন (Sentence Correction) , কম্প্রিহেনশন ( Comprehension ) এর উপর প্রশ্ন করা হয়ে থাকে। বাংলার ক্ষেত্রে, বাংলা সাহিত্য , বাংলা ব্যাকরণ এর উপর প্রশ্ন করা হয়ে থাকে। এবং সাধারণ জ্ঞানের জন্য বাংলাদেশ বিষয়াবলী, আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী ও সাম্প্রতিক বিষয়াবলির উপর প্রশ্ন করা হয়ে থাকে।


দলগত আলোচনা ( Group Discussion )

সাধারণত সরকারি চাকরির পরীক্ষার ক্ষেত্রে এই ধাপটি দেখা না গেলেও বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠানই এই ধরণের পরীক্ষা নিয়ে থাকে। এই পরীক্ষায় প্রার্থীদের একটি দলে বিভক্ত করে দেয়া হয়।এরপর তাদের একটি বিষয় দেয়া হয় আলোচনা করার জন্য। এই বিষয়টি যেকোনো বিষয়ের উপর হতে পারে।অথবা প্রার্থীদের মাঝে একটি বাস্তবিক সমস্যা তুলে ধরা হয় এবং তা কিভাবে সমাধান করা যায় তা জানতে চাওয়া হয়। এই ধরণের পরীক্ষায় প্রার্থীর যোগযোগের ক্ষমতা, প্রার্থীর চিন্তা করার ক্ষমতা , প্রার্থী একটি সমস্যাকে কিভাবে দেখে থাকেন এবং কিভাবে তার সমাধান দিয়ে থাকেন তা দেখা হয়। এই ধরণের পরীক্ষায় অনেকেই যে ভুলটি করে থাকেন তা হলো কোনো কথা না বলা। অনেকেই সবাইকে কথা বলতে দেখে ঘাবড়ে যান এবং নিজের বক্তব্য তুলে ধরতে পারেন না।আবার অনেকে এতো বেশি আক্রমনাত্মক ও সিরিয়াস হয়ে পড়েন যে অন্য কাউকে বলার সুযোগ দেননা যা চাকরিদাতাদের কাছে নেতিবাচক মনভাব তৈরি করে। অন্যদিকে কেউ কেউ প্রথমদিকেই নেতৃত্ব নিয়ে থাকেন এবং অন্যদেরকে বলার সুযোগ করে দেন।প্রার্থীর এই ধরণের পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে প্রার্থীকে অন্যদের থেকে একধাপ এগিয়ে রাখে।


নির্দিষ্ট চরিত্রে অভিনয় ( Role Play )

সাধারণত দলগত আলোচনার পর এই পরীক্ষা হয়ে থাকে। তবে প্রতিষ্ঠান ভেদে এর তারতম্য ঘটতে পারে। এই পরীক্ষায় প্রার্থীদের একটি বাস্তব পটভূমি দেয়া হয় এবং তাতে প্রার্থীদেরকে যে পদে আবেদন করেছে সেই পদের একজন কর্মী হিসেবে অভিনয় করতে হয়। যেমন একজন মানব সম্পদ ব্যাবস্থাপক হিসেবে অভিনয় করা অথবা একজন বিক্রয় কর্মী হিসেবে অভিনয় করা ইত্যাদি। এই ধরণের পরীক্ষায় দেখা হয় প্রার্থী ব্যবহারিক সমস্যা সমাধানে কতটুকু দক্ষ এবং চাপের মুখে প্রার্থী কিভাবে নিজেকে সামাল দিয়ে থাকেন।


উপস্থাপনা ( Presentation )

এই পর্যায়ে প্রার্থীকে একটি বিষয় দেয়া হয় এবং একটি সময় বেঁধে দেয়া হয় প্রেজেন্টেশন তৈরী করার জন্য ও তা নিয়োগকর্তাদের সামনে উপস্থাপন করার জন্য। এই কাজটি এক অথবা দলগত ভাবে হয়ে থাকে। যদি দলগতভাবে কাজটি দেয়া হয় সেইক্ষেত্রে নিয়োগকর্তারা দেখতে চান প্রার্থী একটি দলের সাথে কিভাবে যোগাযোগ করছে , দলগত কাজে তার আচরণ এবং সর্বোপরি তার উপস্থাপনার দক্ষতা চাকরিদাতারা যাচাই করে থাকেন।


খেলা (Game)

শুনতে অবাক লাগলেও ব্যপারটি সত্যি। এই পরীক্ষায় প্রার্থীদের বিভিন্ন খেলা খেলতে দেয়া হয়, যেমন গোলক ধাঁধার সমাধান , গুপ্তধন সন্ধান, বাক্স বানানো ইত্যাদি। এই পরীক্ষার অন্যতম উদ্দেশ্য হয়ে থাকে প্রার্থীর নেতৃত্ব দানের ক্ষমতাকে যাচাই করা, প্রার্থী দলের সাথে কিভাবে নিজেকে মানিয়ে কাজ করতে পারে তা দেখা এবং লক্ষ্য অর্জনে কিভাবে কৌশলগতভাবে কাজ করে থাকে তা দেখা।


সাক্ষাতকার ( Interview )

চাকরি প্রার্থীর সাথে সরাসরি কথা বলার প্রক্রিয়াটি হলো সাক্ষাতকার। সাধারণত সাক্ষাতকার দুটি পর্যায়ে হয়ে থাকে , প্রাথমিক সাক্ষাতকার ও চূড়ান্ত সাক্ষাতকার । সাক্ষাতকারের দুটি ধাপের অন্যতম কারণ হচ্ছে প্রার্থীকে ভালো করে জানা ও বোঝা। সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে লিখিত পরীক্ষার পরবর্তী ধাপটিই হয়ে থাকে মৌখিক পরীক্ষা বা সাক্ষাতকার । অন্যদিকে কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান লিখিত পরীক্ষার পর চূড়ান্ত সাক্ষাতকার নিয়ে থাকে আবার কেউ কেউ দুটি ধাপে সাক্ষাতকার গ্রহণ করে থাকেন।


উপরে বর্ণিত পরীক্ষাগুলোর বর্ণনা পড়ে যদি গলা শুকিয়ে আসে তাহলে একটি দীর্ঘ নিঃস্বাস নিন। হ্যাঁ আপনি পারবেন , পরীক্ষার ধাপ যতই বেশি হোক না কেন। প্রস্তুতিটি যত ভালো করে নিবেন ততই ভালো করবেন।আর তার জন্য সবার প্রথমে যে বিষয়টি চাই তা হলো আত্মবিশ্বাস। আপনার দৃহ আত্মবিশ্বাস আপনাকে অনেক দূর নিয়ে যেতে পারবে পরীক্ষা যতই কঠিন হোক না কেন। আর এই আত্মবিশ্বাস আপনি তখনিই পাবেন যখন আপনার একটি ভালো প্রস্তুতি থাকবে। তাই এখনই সময় নিজেকে প্রস্তুত করুন আর এগিয়ে যান স্বপ্ন ছোঁয়ার অভিপ্রায়ে।


Search jobs by